2018-02-14 05:59:34p

মৃত মায়ের পাশেই ঘুমিয়ে ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:পৃথিবীতে যত রকম ভালোবাসা আছে তার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট মায়ের ভালোবাসা। এর সঙ্গে আর কোনো ভালোবাসার তুলনা চলে না। মায়ের পাশে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা এই ছোট্ট ছেলেকে দেখার পর এই ধারণা আরও পাকাপোক্ত হয়। অথচ এই শিশুটি জানেই না তার মা আর বেঁচে নেই। মারা গেছেন ঘণ্টা দু’য়েক আগে! ছবিটি ভারতের হায়দ্রাবাদের একটি হাসপাতাল থেকে রবিবার রাতে তোলা হয়েছে।

হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডের এই ছবি হতবাক করে দিয়েছিল ডাক্তার-নার্সদের। ছেলেটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বহু চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু তাকে একচুলও নড়ানো যায়নি। রবিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে প্রবল শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সামিনা সুলতানা। সঙ্গে পাঁচ বছরের ছেলে, শোয়েব। সামিনাকে বাঁচানো যায়নি, রাত সাড়ে বারোটায় মারা যান তিনি।

পুরো সময়টা মায়ের পাশ থেকে এক বারের জন্যও সরেনি শোয়েব। ডাক্তাররা যখন হাল ছেড়ে দিলেন, তখনও মায়ের খাটের পাশে দাঁড়িয়ে সে। তারপর নার্স-ডাক্তাররা সরে যেতেই মায়ের পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সে। এ রকম ভাবেই ঘণ্টা দু’য়েক ঘুমিয়ে ছিল শোয়েব। তারপর সামিনার দেহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মর্গে।

কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সঙ্গে না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। তারা শোয়েবের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, কয়েক দিন ধরেই ভুগছিলেন সামিনা। যে লোকটির সঙ্গে থাকতেন, সে রবিবার সন্ধেবেলা মা-ছেলেকে হাসপাতালের বাইরে বসিয়ে রেখে চলে যায়। মাকে ধরে ধরে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে এসেছিল ছোট্ট শোয়েব-ই। কিন্তু তত ক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী ইমরান মুহম্মদ জানিয়েছেন, শোয়েবের কাছে তার মায়ের আইডিকার্ড ছিল। সেই ঠিকা়নাতেই পুলিশ গিয়ে সামিনার ছোট ভাই মুশতাক পটেলের খোঁজ পায়। সোমবার সন্ধেবেলা এসে সামিনার দেহ নিয়ে যান মুশতাক। নিয়ে যান মা-হারা শোয়েবকেও। তখনও ছেলেটি জানে না, তার প্রিয় মা আর বেঁচে নেই। অবুঝ শিশুটি জানে, মায়ের শরীর বেশি খারাপ হওয়ায় তাকে হাসপাতালের অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে বেশি হায়দ্রাবাদ থেকে ফোনে মুশতাক জানান, ‘মা-কে হারিয়ে একদম চুপ করে গিয়েছে ছেলেটা। কত কথা বলত, দুষ্টমী করত। এখন শুধু এক জায়গায় বসে আছে। কোনও কথা বলছে না, কাঁদছেও না।’

মুশতাকদের আদি বাড়ি তেলঙ্গানার জহিরাবাদ থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে, ছোট্ট গ্রাম তুরমামিদিতে। পেশায় গাড়িচালক মুশতাক এখন থাকেন হায়দরাবাদের ফলকনুমায়। সামিনার সঙ্গে যার বিয়ে হয়েছিল, সেই আইয়ুব বছর তিনেক আগে ছেলে-বউকে ছেড়ে চলে যান। সামিনা ছেলেকে নিয়ে ওঠেন ছোট ভাইয়ের সংসারেই। মাস কয়েক আগে অন্য এক লোকের সঙ্গে ভাব হয় সামিনার। এরপর সেই লোকের সঙ্গে থাকতে শুরু করে সে। ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে যায়।

এখন মা মরে যাওয়ার পর শোয়েব ওর মামার সঙ্গেই আছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুশতাক বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়ের সঙ্গেই মানুষ করব ওকে। ওর মাকে তো আর ফিরিয়ে আনতে পারব না।’
সূত্র: আনন্দবাজার 

আইএনবি:বিভূঁইয়া