2018-02-05 06:57:56p

রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার দেবে সুইজারল্যান্ড

আইএনবি ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার (১ কোটি ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ) সহায়তা দেবে সুইজারল্যান্ড। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরস এই প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠক শেষে দুই নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

 
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি।

এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন।

বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আঁলা বেরসে বলেন, ‘অনেক বাধার পরও বাংলাদেশ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করাসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, সুইজারল্যান্ড তাকে গুরুত্ব দেয়। কারণ গণতন্ত্র ও আইনের শাসন দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূলভিত্তি।’ তিনি বলেন, ‘দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। উন্নয়ন ও বাণিজ্য খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্ক গড়তে চাই।’
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্যবিমোচনে বাংলাদেশ যেভাবে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে, তা প্রসংশনীয়। সবুজ অর্থনীতি তথ্য প্রযুক্তি খাতসহ একাধিক বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

এর আগে, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসে পৌঁছান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। চার দিনের সফরে গতকাল রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান সুইস প্রেসিডেন্ট। তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

প্রসঙ্গত, সুইজারল্যান্ডের কোনও প্রেসিডেন্টের এটিই বাংলাদেশে প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। তার এই সফরে আলোচনায় দু’টি বিষয় বেশি গুরুত্ব পাবে। বিষয় দু’টি হলো মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গা সংকটে গুরুতর প্রভাবিত বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং দুই দেশের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।