2018-01-28 01:32:24p

মাদরাসা শিক্ষাকে জাতীয়করণের আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

আইএনবি ডেস্ক: মাদরাসা শিক্ষাকে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আধুনিকায়ন করা হয়েছে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষকদের জাতীয়করণ করার দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবো। একই আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমি’আতুল মোদার্রেছীনের মহাসমাবেশে এ আশ্বাস দেন তারা। মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করাসহ চারদফা দাবিতে এ মহাসমাবেশের ডাক দেয় মাদরাসা শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন জমি’আতুল মোদার্রেছীন। সকালে সমাবেশের উদ্বোধন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। মানুষ জঙ্গিবাদ পছন্দ করে না; প্রশ্রয় দেয় না।
আমি স্পষ্ট করে বলছি মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দেয়া হয়। যারা জঙ্গিপনা করছে তারা ইসলাম ধর্মের ওপর কালিমা লেপন করতেই এসব করছে। 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় মাদরাসা শিক্ষা ও আলেম-ওলামাদের প্রতি সম্মান দেখান। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকার অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আন্তরিক। আপনাদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী পূরণ করবেন। আমিও আপনাদের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবো। 

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এদেশে কোরআনবিরোধী কোনো আইন হবে না। মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা বিস্তারের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা অধিদপ্তর, বেতনসহ অন্যান্য অনেক দাবি পূরণ হয়েছে। এখন চাকরি জাতীয়করণ ছাড়াও যে দাবিগুলো রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তা তুলে ধরবো। আশা করি তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে কথা বলে বিবেচনা করবেন। শিক্ষকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনের সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীন সমাবেশে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। এরমধ্যে আছে শিক্ষার্থী সংকট দূরীকরণে সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদসারাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণের আওতাভুক্ত করা, উপবৃত্তি ও টিফিনের ব্যবস্থা এবং নতুন ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক সংকট দূরীকরণে জমি’আতুল মোদার্রেছীন কর্তৃক জনবল কাঠানো অনুমোদন ও মাদরাসার সহকারী মৌলভীদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের মাদরাসাগুলোতে প্রায় ৮০ লাখ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে আনতে চাইলে মাদরাসা শিক্ষার বিকল্প নেই। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আলমগীর, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর একেএম সাইফুল্লাহ, মাওলানা মোসাদ্দেক আল মাদানী, অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, মাওলানা হুসামুদ্দিন (ফুলতলী), সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জৈনপুরী, মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী, প্রিন্সিপাল মোকাদেসুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল আবুল ফজল মো. শরিফউদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা হাসান মাসুদ, মাওলানা একেএম মনওয়ার আলী, মাওলানা ইদ্রিস খান, অধ্যাপক শরাফত উল্লাহ প্রমুখ। মহাসমাবেশ পরিচালনা করেন জমি’আতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বীর আহমদ মমতাজী।