2018-01-25 11:35:25a

আমি অবাক হয়ে যাই তাদের এরূপ আচরণে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমাদের দেশের সাংবাদিকদের আমি শ্রদ্ধা এবং সম্মান করি। কারণ, উনারা অনেক পরিশ্রম করে বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রহ করে সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। আমার জানা মতে তারা নিজেদের পার্থিব জীবনের কথা কমই চিন্তা করেন। কবির ভাষায় বলতে হয়, রানার ছুঁটেছে তাই ছুমছুম ঘন্টা বাচ্ছে..। কিন্তু কিছু কতিপয় কার্ডধারী সাংবাদিক নামধারী ব্যাক্তিদের জন্য আমাদের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন হচ্ছে।

কারণ, গাড়ির কাগজ পত্র সঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য আমরা যখন গাড়ির চালকের সাথে কথা বলি, তখনই ঐ সব কার্ডধারী সাংবাদিক পরিচয় ব্যক্তিরা ছবি উঠিয়ে আমাদেরকে ব্লেকম্যান করে বলে আপনি গাড়ির ড্রাইভারের নিকট থেকে টাকা চেয়েছেন। তাদের এরূপ আচরণে রীতিমত অবাক হয়ে যাই। শুধু তাই নয়, কিছু কিছু নামধারী ঐ সব সংবাদকর্মীরা অনেক সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজেরাই গাড়ি আটকিয়ে চালকের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর আছে। আমি অবাক হয়ে যাই তাদের এহন আচরণ দেখে। যাদেরকে জাতির বিবেক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে সেই তারাই অনৈতিক কাজ করছে? আসলে তারা সত্যিকারের জাতির বিবেক সাংবাদিকদের কলংকিত করছেন বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, আমি যদি প্রতিদিন সর্বনিম্নে ১০ হাজার টাকার পরিমান মামলা করেও থাকি যার মাসিক পরিমান প্রায় ৩ (তিন লক্ষ) টাকার মত সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে। প্রয়োজনে, আপনি যাচাই করে দেখতে পারেন, আমি মিথ্যে বলেছি কিনা?

তিনি আরোও বলেন, আমি স্বীকার করছি, আমাদের প্রশাসনেও কিছু কতিপয় অসাধু ট্রাফিক সদস্য এবং অফিসার রয়েছেন। কিন্তু কেউ কি হলফ করে বলতে পারবে সবাই একদম সাধু? কারো কোন দোষ নেই?আমরা মানুষ ভুলভ্রান্তি থাকাটাই স্বাভাবিক। দু’একজনের জন্য গোটা ট্রাফিক বিভাগকে দায়ী করা যেমনি ঠিক না, তেমনি ঐসব কার্ডধারী সাংবাদিকদের জন্য আমি গোটা সাংবাদিক সমাজকেও দায়ি বা দোষ দিচ্ছিনা। কিন্তু অচিরেই এ অবস্থা থেকে বের হয়ে না আসলে সাধারণ মানুষ অসাধু কার্ডধারী সংবাদকর্মীদের জন্য জাতির বিবেকদের শ্রদ্ধার চোখে দেখবেন না বলে আমি মনে করি।

সরকার আমাদের বেতন দিয়ে রেখেছেন জনগনের নিরাপত্তার জন্য। রাস্তায় যেন জ্যামহীন ভাবে জনসাধারণ চলাচল করতে পারে আমরা সেই চেষ্টা সবসময়ই করে যাচ্ছি। শুধূ তাই নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রীসহ ঢাকার জানজট নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছেন। কিভাবে ঢাকাকে জ্যাম মুক্ত করা যায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই চিন্তা থেকেই হানিফ ফ্লাইওভার করে দিয়েছেন, পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিচ্ছেন। আমাদের দেশের মানুষ যেন একটু ভালভাবে বেঁচে থাকার তাকিদে রাস্তা ঘাটে শান্তিতে চলাচল করতে পারেন।

উল্ল্যখ্য, গত (০৭-০৩-২০১৭ইং) বুধবার পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষ করে অফিসে ফেরার পথে জোরাইন ব্রীজের উপর সুত্রাপুর ট্রাফিক জোনে কর্মরত সার্জেন্ট শফিকুজ্জামান এর সাথে দেখা হলে আলাপ চারিতার একপর্যায়ে তিনি আক্ষেপ করে এই মত প্রকাশ করেন।

আইএনবি: বিভূঁইয়া