2018-01-25 11:22:39a

হৃদয়ের প্রেমের শীর্ষ

বসন্ত যায় যায়। প্রকৃতি থেকে বিদায় নিলেও মনে বসন্তের আনাগোনা রয়েই যাবে। ফুরাবে না প্রেম। এ সংখ্যাটি প্রেমের গল্প ও কবিতার

সৈয়দ শামসুল হক
তুমি আজও তুমি

সে কী বিস্ময়! সেই বসন্ত! কী করে ভুলি?
অমাবস্যার রাত নাকি সেটা দীর্ঘ চুলই
পরণকথার কোনো রূপসীর! আজকাল কারও
দেখি না তো চুল দীর্ঘ এতটা—
বিস্ময় সে কী! আর সেই চুলে তারার ফোঁটা—
কত লক্ষ তা? এক লক্ষই হবে—
দাবানল লাগা বনের শিখায়
ওড়ে এক কোটি অগ্নিকণা—
আমি ভুলব না সে উন্মাদনা!hhhh
বিস্ময়ে হই এমন বিমূঢ়—
প্রান্তরে থাকি দাঁড়িয়ে মূর্তি—কাঁধের ওপরে মুড়ো
খসে পড়ে যেতে চায় প্রান্তরে—
অগ্নিকণায় চোখের তারাটি পোড়ে।
আজ এভেন্যুয়ে এসে যেই দাঁড়ালাম—
সেদিন যুবক বেলার আমাকে বললাম,
ওরে থাম!
সেই একই ছবি! অগ্নি সে একই!
আজও যে হঠাৎ দেখি—
পরণকথার রূপসী তো নয় তোমাকেই দেখে উঠি
যেন জ্যোৎস্নার মাখন মাখানো হৃদয়ের পাউরুটি!
শুধু প্রতীকের হেরফের আর
বয়স গড়িয়ে যাওয়া—
তুমি আজও তুমি! স্মৃতির খাতায়
পাতা উড়ে যায়—
মুখ পরে মুখ—তোমারই তো মুখ—বসন্ত রাত!—
কত বসন্ত এল আর গেল—বারবার ফিরে পাওয়া।

 

 

preme opreme-098798আসাদ চৌধুরী
প্রেমে অপ্রেমে

বাঁশি যখন প্রার্থনা করে
হু হু করে কাঁদে,
তখন কেউ তো আছে
মুখে হাসি আর
মনে তার বিপুল সন্দেহ

স্মৃতি কোনো রং নয়
সুর নিয়ে
খেলা করে শুধু
বাঁশি তুলি নয়
তুলি বাঁশি নয়…
চৈত্রের অন্তিম ক্ষণে
কোনোখানে ব্যতিক্রম নেই

ফারুক মাহমুদ
যখনই প্রেমের জন্ম

সামান্য শব্দের ভুল। চলে গেছ দূর থেকে আরও বেশি দূরে
ফিরে কি আসবে না আর? গভীর আড়ালগন্ধ, অন্য কিছু নয়
তোমাকে আকাঙ্ক্ষা করি—সে-ও এক স্মৃতিগল্প, চক্ষুঝরাজলprem
সরল প্রতীক্ষাগুলো কেঁদে ওঠে রোদনের থমকে থাকা সুরে
অবজ্ঞা দেয়ালরেখা। কেউ ভাঙে, কেউ তাতে সমর্পিত হয়
ব্যাজস্তুতি গ্রাহ্য হলে ফণা তোলে ছলনা ও শ্বাপদের ছল

বাতাসের মরা কণ্ঠ। দীর্ঘশ্বাস শুনবে বলে গল্প জেগে নেই
যে-বৃক্ষে ফুটিয়েছিলে কুসুমের সবুজের অতিদীর্ঘ হাসি
ও-পথে জটিল চিহ্ন! যারা ছিল স্বপ্নবন্ত-হারিয়েছে খেই
তবু তুমি চলে এসো! কেউ তো বলতেই পারে—‘আজও ভালোবাসি’
নদীটি নদীর সঙ্গে মেলে যদি—মিশে যায় ছন্দজলে ভেসে
যখনই প্রেমের জন্ম—মৃত্যু এসে ফিরে যায় সনির্বন্ধ হেসে

ময়ুখ চৌধুরী
দরজার কাঠ
টোকা দিলে খুলে যাবে, এ রকম দরজা সে নয়।
কাঠঠোকরা ভালোবেসে টোকা দিয়েছিল

কত লক্ষ শতবার! ঠোঁটে-বুকে রক্তপাত ঘটে গিয়েছিল।
বার্নিশে রয়েছে ঢাকা বৃক্ষজনমের ক্ষয়ক্ষতি।

টোকা দিলে খুলে যাবে, এ রকম দরজা সে নয়।

তোমার নিজস্ব ক্ষতস্থান
জামা খুলে দেখাও তাহারে।
কেননা সে দেখেছিল আরণ্যক সভ্যতার ডালে
বিবাহবিহীন ডিমে পাখিদের দাম্পত্য জীবন।
mittu-amittu-0987জাফর আহমদ রাশেদ
দু-একটি মৃত্যু

কোনো কোনো মৃত্যু দু-একটি অতিরিক্ত
পাতা ঝরিয়ে দেয়,
অযত্ন কেঁদে যাওয়ার মতো—
কোনো কোনো দিন তুমিও সঙ্গী হয়ে থাকো
ঝরাপাতাদের;
ঘাসের তিনটি ডগা ছুঁয়ে
শুয়ে থেকে
লোকদের নিয়মিত ব্যস্ততা দেখো
আর দু-একজন তরুণ-তরুণীর
অযথা নিঃস্ব নিঃসঙ্গতা—