10-06-2015

এবার ক্রিকেটে দেখা বাংলাদেশ–ভারতের

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের ‘ফলোআপ স্টোরি’ এখনো থামেনি। সবচেয়ে প্রতাপশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী যে এই দেশে দুটি দিন কাটিয়ে গেলেন, তার প্রভাব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মোদি আসায় বাংলাদেশের কতটা উপকার হলো, কতটুকু সুবিধা পাবে ভারত। তিস্তার পানি, ছিটমহল...আরও যে কত কিছু!
বাংলাদেশের মানুষের প্রাত্যহিক আলোচনায় যে মুহূর্তে ভারত এতটাই জায়গা দখল করে আছে, তখনই যোগ হলো ভারতবিষয়ক আরেকটা প্রসঙ্গ। ক্রিকেটের পিঠে সওয়ার হয়ে সেটা নিয়ে এসেছে বিরাট কোহলির দল।
ফতুল্লা স্টেডিয়ামে আজ থেকে তাই আবারও একসঙ্গে উড়বে বাংলাদেশ-ভারতের পতাকা। তবে মোদির সফরে যেভাবে উড়েছে, সেভাবে নয়। সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে মোদি এসেছিলেন আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে। আর কোহলির দল এসেছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে। বন্ধুত্ব নয়, ব্যাট-বলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যতটা সম্ভব দূরত্বই তৈরি করতে চাইবে সেই দল। অবশ্য মুশফিকুর রহিমরাও ভারতের দিকে মৈত্রীর আলিঙ্গনের উদ্দেশ্যে হাত বাড়িয়ে নেই। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় দল ভারত যেমন চায় অসুরশক্তি দিয়ে বাংলাদেশ দলটাকে গুঁড়িয়ে দিতে, ফণা তোলা সাপ হয়ে ঊর্ধ্বমুখী ছোবল মারতে চাইবে নয় নম্বরে থাকা বাংলাদেশও। সাম্প্রতিক সময়ে দৈত্যবধে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে দলটা। ভোজের থালায় ভারতই বা বাদ থাকবে কেন!
এমন রোমাঞ্চকর উপলক্ষে যখন বাংলাদেশ বনাম ভারত লড়াইয়ের দিকেই সবার চোখ থাকার কথা, তখনই কাহিনিতে ‘টুইস্ট’ নিয়ে এলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ২০১১ বিশ্বকাপে কানাডার কোচ হয়ে এসেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফতুল্লায় একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল তাঁর দল। এ মাঠের সঙ্গে এর আগে এতটুকুই পরিচয়, উইকেট চেনার জন্য যেটা মোটেও যথেষ্ট নয়। কিন্তু গত তিনটা দিন যে ফতুল্লায় দল নিয়ে অনুশীলন করলেন, তখনো কি উইকেটে চোখ পড়েনি হাথুরুসিংহের! কাল সবাইকে অবাক করে দিয়ে বললেন, এমন উইকেট নাকি জীবনে দেখেননি। আজ থেকে শুরু সিরিজের একমাত্র টেস্টে এখন তাই শুধু ভারতকেই প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে না, ২২ গজের উইকেটটাও বুঝি ‘শত্রু’ হয়ে গেল! নিজেদের মাঠে শুরুটা সবাই নিশ্চিন্ত মনে করলেও ‘কাটা ঘাসে’র উইকেট নিয়ে চিন্তার বলিরেখা বাংলাদেশ কোচের কপালে। টিম ম্যানেজমেন্ট চেয়েছিল ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট। কিন্তু মাটিতে মিশে থাকা ঘাস কোচ-অধিনায়ককে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে—ব্যাটিংটা এখানে সহজ হবে তো? নয় বছর পর ফতুল্লা স্টেডিয়ামে টেস্ট ক্রিকেটের ফেরাটা যেন হচ্ছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দিয়ে।
হাথুরুসিংহে অবশ্য এই চিন্তাটুকু মাথায় রেখেও জয়কেই পাখির চোখ করছেন। মুশফিক বলে দিলেন দ্বিতীয় লক্ষ্যটাও—ড্র। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে বাস্তবসম্মত সর্বোচ্চ লক্ষ্য বোধ হয় এটাই হওয়া উচিত। ভারতের শক্ত ব্যাটিং স্তম্ভকে দুবার উপড়ে ফেলার মতো বোলিং শক্তি বাংলাদেশের কোথায়!
একাদশ নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের যে চিন্তার কথা জানা গেল, তাতেও মনে হচ্ছে বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় লক্ষ্যটার দিকেই বেশি জোর দিচ্ছে। সাকিব আল হাসানকে নিয়ে সাত ব্যাটসম্যান এবং সাকিব আল হাসানকে ছাড়া চার বোলার, কাল রাত পর্যন্ত নাকি এমন সম্ভাবনাই বেশি ছিল। নির্ভেজাল বোলারদের মধ্যে দুই পেসার ও দুই স্পিনার। নাসির হোসেন আর শুভাগত হোম চৌধুরীর সঙ্গে এগারো জনের বাইরে থাকার সম্ভাবনা মোহাম্মদ শহীদ ও আবুল হাসানের মধ্যে একজনের। একটি সূত্রে অবশ্য এমনও জানা গেছে, ওয়ানডের জন্য ফিট রাখতে টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে রুবেল হোসেনকে। সে ক্ষেত্রে খেলবেন শহীদ ও হাসান দুজনই।
ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকায় কাল অবশ্য দলে থাকা তিন পেসারের কেউই মাঠে আসেননি। আসেননি সাকিব, ইমরুল কায়েস আর টেস্ট অভিষেকের প্রহর গুনতে থাকা লিটন কুমার দাসও। সংবাদ সম্মেলনে ভারত অধিনায়ক কোহলিও বলছিলেন, তাঁরা হালকা অনুশীলন করবেন। বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত মাঠে কাটালেও তাঁদের অনুশীলনটা আসলেই হালকা মেজাজেরই ছিল।
তার মানে অবশ্য এই নয় যে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশও হালকা হয়ে যাচ্ছে কোহলির কাছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও ওয়ানডে খেলেছেন। তা ছাড়া চোখ আছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশ দলকে আর দশটা প্রতিপক্ষের মতোই দেখছেন কোহলি, ‘সব প্রতিপক্ষকে আমরা একই দৃষ্টিতে দেখি। এটা আমাদের কাছে অন্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলা টেস্টগুলোর মতোই আরেকটা টেস্ট।’
মহেন্দ্র সিং ধোনি চোটে পড়ায় টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন গত জানুয়ারির অস্ট্রেলিয়া সফরেও। তবে নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে কোহলির শুরুটা হচ্ছে ফতুল্লায় টেস্ট দিয়েই। এই সফর তাঁকেও দিচ্ছে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার হাতছানি।
সেটা যত কম সত্যি হয়ে উঠবে, ততই আশা বাড়বে মুশফিকদের জন্য।